প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
ইরানের বন্দর-উপকূল থেকে অবরোধ তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্রা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির (ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) অংশ হিসেবে ইরানের বন্দর ও উপকূল থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।সেন্টকোমের সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানি বন্দরগুলোতে জাহাজের আসা-যাওয়া, চলাচলে আর বাধা দেবে না মার্কিন বাহিনী। যেসব সামরিক অবরোধ জারি করা হয়েছিল, সব প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।”গত ১৭ জুন বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল— ইরানের বন্দরগুলো এবং সমুদ্র উপকূল থেকে সামরিক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি স্বাক্ষরের একদিনের মধ্যেই কার্যকর করা হলো সেই শর্ত।এখন অপেক্ষা হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানের অবরোধ তুলে নেওয়ার। তেহরানের পরমাণু প্রকল্প ঘিরে সৃষ্ট টানাপোড়েনের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করার দিনই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। অবরোধ আরও দৃঢ় করতে ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রণালির বিভিন্ন স্থানে জলমাইনও পাতে ইরান। সেই অবরোধ এখনও কার্যকর আছে।হরমুজ থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং এই প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ ও অবাধ চলাচলের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া ছিল ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ইরানের তরফ থেকে এখনও অবরোধ প্রত্যাহার কিংবা মাইন অপসারণ সংক্রান্ত কোনো তথ্য আসেনি।যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স অবশ্য আশাবাদী যে ইরান শিগগিরই হরমুজ ইস্যুতে পদক্ষেপ নেবে। বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরান টানা দুই রাত হরমুজে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে হামলা কলা থেকে বিরত থেকেছে। সাংবাদকিদের ভ্যান্স বলেন, “এখন পর্যন্ত তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে।”ভ্যান্স আরও দাবি করেন, এ দুই রাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল। সিএনবিসি অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গোয়েন্দা সংস্থা কেপলার সিএনবিসিকে জানিয়েছে, গত ২ দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৩টি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ চলাচল করেছে। এই তিন জাহাজের সম্মিলিত তেলের পরিমাণ ৬০ লাখ ব্যারেল।বিশ্বের মোট জ্বালানিপণ্যের ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয় হরমুজ প্রনালি দিয়ে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে আগে প্রতিদিন এ প্রনালি দিয়ে পরিবহন করা হতো প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং ৬০ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাস।ইরান অবরোধ জারি করার পর জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারের সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুতর ব্যাঘাত ঘটে, ফলে একদিকে দেশে দেশে জ্বালানির সংক দেখা দেয়, অন্যদিকে হু হু করে বাড়তে থাকে তেল ও গ্যাসের দাম।সিএনবিসিকে কেপলার জানিয়েছে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি সমঝোতা চুক্তির শর্তগুলো যথাযথ এবং সৎভাবে মেনে চলে—তাহলেও তেলের বাজার স্বাভাবিক হতে, অর্থাৎ যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় পৌঁছাতে সময় লাগবে কমপক্ষে ২ মাস।
সূত্র : সিএনবিসি
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক রেলওয়ে বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত