প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
মোদির বারানসিতে বিজেপির হার, কর্ণাটকে ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের ভরাডুবিা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ভারতের রাজ্য আইনসভার উচ্চকক্ষ বিধান পরিষদের বেশ কয়েকটি আসনে ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে আশানুরূপ ফল পেতে ব্যর্থ দেশটির বর্তমান কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (আইএনসি)। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা আসন বারানসির ২টি বিধান পরিষদ আসনে হেরেছে বিজেপি। অপরদিকে, কর্ণাটক রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেস সেখানকার ৪ আসনের সবকটিতেই পরাজিত হয়েছে। আঞ্চলিক কিছু দল বেশ ভালো ফলাফল করেছে।রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আরএসএস) সদর দফতর নাগপুরেও হেরেছে বিজেপি। এই আসনে কংগ্রেস জিতলেও চারটি রাজ্যে ভোট হওয়া ২৮ আসনের আর কোনোটিতেই জেতেনি রাহুল গান্ধির দল।বিজেপির পক্ষে বড় দুশ্চিন্তার কারণ দুই রাজ্য উত্তর প্রদেশ ও মহারাষ্ট্র। উত্তর প্রদেশে ভোট হয় ১১ আসনে। এর মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৬টি, অন্য ৫টি আসন জিতেছে সমাজবাদী পার্টি (এসপি), যারা আগের বারের তুলনায় ২টি আসন বেশি জিতেছে।আগামী ৩ মাসের মধ্যেই উত্তর প্রদেশে বিধানসভার ভোট। তাই বারানসির মতো আসনে ২ বিধান পরিষদে এসপির কাছে হার এবং এসপির আসন বৃদ্ধি রাজনৈতিক দিক থেকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।মূলত, বারানসির যে দুই কেন্দ্রে ভোট হয়, শিক্ষক সমাজ ও স্নাতকেরা ছিলেন সেখানকার ভোটার। এই ফল শিক্ষিত ভোটারদের বিজেপি থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখার ইঙ্গিতও যেন প্রতিফলিত করলো।মহারাষ্ট্রের পাঁচটি আসনের মধ্যে বিজেপি জোট জিতেছে মাত্র দুটি। বাকি তিনটি আসনই পেয়েছে বিরোধী ‘এমভিএ’ জোট। নাগপুরে তো কংগ্রেসের কাছে বিজেপির হার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচিত হয়েছে। এই আসনের ফল প্রকাশের পর এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরার আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ পর্যন্ত দেখা গেছে।কংগ্রেসের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে কর্ণাটক। এই রাজ্যে তারা ক্ষমতায়। এখানকার যে চার আসনে ভোট হয়, তার তিনটি ছিল বিজেপির, একটি কংগ্রেসের। সবশেষ ২০২৩ সালের ভোটে এখানে ক্ষমতায় আসে রাহুলের দল। বিধান পরিষদের যে আসনটি কংগ্রেসের ছিল, সেটি তারা হারিয়েছে বিজেপির শরিক দল জেডি(এস)-এর কাছে। অপরদিকে, এখানে নিজেদের পূর্বের ৩ আসনই ধরে রেখেছে বিজেপি। ২০২৮ সালে রাজ্যের পরবর্তী বিধানসভা ভোটের আগে দক্ষিণের এই রাজ্যে কংগ্রেস যেন কিছুটা চাপেই পড়ে গেলো।বিহারে ভোট হয় ৮ আসনে। বিজেপি এখানে জিতেছে ৩টি, তাদের সঙ্গী জেডি(ইউ) ১টি, আরজেডি ও জনসুরাজ পার্টি ১টি করে এবং ২টি আসন জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।উল্লেখ্য, ভারতের জাতীয় সংসদে যেমন দুটি কক্ষ, লোকসভা ও রাজ্যসভা; তেমনই ভারতের রাজ্য আইনসভাগুলোর নিম্নকক্ষ হলো বিধানসভা, উচ্চকক্ষ বিধান পরিষদ। তবে দেশটির অধিকাংশ রাজ্যেই তুলে দেওয়া হয়েছে বিধান পরিষদ। বর্তমানে ৬টি রাজ্যে রাজ্য আইনসভার এ উচ্চকক্ষ রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক রেলওয়ে বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত