প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী পদে দুই বছর নেতানিয়াহু, পরের দুই বছর আইজেনকোট!া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতা ধরে রাখতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ খুঁজছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। এর অংশ হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাবও বিবেচনা করা হচ্ছে।ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল ন্যাশনাল নিউজ-এর বরাতে ফার্স্টপোস্ট জানিয়েছে, রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে লিকুদ পার্টির ভেতরে কয়েকটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ ভাগ করে নেওয়া, উগ্রপন্থী ইহুদি দলগুলোকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন এবং বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের নিজেদের পক্ষে টানা।প্রস্তাবিত ক্ষমতা ভাগাভাগির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দুই বছর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন নেতানিয়াহু। এরপর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে পারেন সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আইজেনকোট কিংবা বিরোধী দলের অন্য নেতারা এমন সমঝোতায় রাজি হবেন কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।লিকুদ পার্টির আলোচনায় থাকা আরেকটি বিকল্প হলো ধর্মনির্ভর অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোকে বাদ দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ ও জায়নবাদী দলগুলোর সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন।ইসরায়েলের রাজনীতিতে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এই সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলো ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত অনেক শিক্ষার্থীর জন্য সামরিক বাহিনীতে যোগদানের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি চায়। অন্যদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জাতীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব সবার মধ্যে সমানভাবে বণ্টনের দাবি জানিয়ে আসছে।আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টি বিরোধী শিবিরের অংশ। তিনি সামরিক দায়িত্ব পালনে সবার সমান অংশগ্রহণের পক্ষে। তবে নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি একাধিকবার বলেছেন, নেতানিয়াহুর আর প্রধানমন্ত্রী থাকা উচিত নয়। সরকার গঠনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ওপর নির্ভর করতেও তিনি অনাগ্রহী।সরকার গঠনের জন্য লিকুদ পার্টির আরেকটি ভাবনা হলো বিরোধী দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতাকে নিজেদের পক্ষে আনা। দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রের ধারণা, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোটের আসনসংখ্যা ৬০-এর কাছাকাছি পৌঁছালে এ কৌশল কার্যকর হতে পারে। বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য পক্ষ পরিবর্তন করলেই সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া সম্ভব হতে পারে।তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নির্ভর করছে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা নিজেদের রাজনৈতিক জোট ছেড়ে আসতে রাজি কি না, তার ওপর। সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুব কম ব্যবধানে হলে নতুন সরকারের স্থায়িত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু নির্বাচনে প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের কেউই সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।সমঝোতা না হলে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। এদিকে রাজনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নেতানিয়াহু।প্রধানমন্ত্রীর পদ, সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ এবং সরকারের নীতিগত অবস্থান নিয়ে দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হলে কয়েক মাসের মধ্যে ইসরায়েলে আবারও জাতীয় নির্বাচন হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির)
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক রেলওয়ে বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত