ঢাকা   বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

পদ্মা রেলপথে ৯৩ ধরনের যন্ত্রাংশ চুরি, ঝুঁকিতে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা



পদ্মা রেলপথে ৯৩ ধরনের যন্ত্রাংশ চুরি, ঝুঁকিতে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে একের পর এক চুরির ঘটনায় রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত প্রায় ৫০টি ট্রান্সফরমার চুরির পাশাপাশি রেলপথের ৯৩ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যন্ত্রাংশ চুরির তথ্য সামনে এসেছে। এতে রেললাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা এবং ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

একাত্তর টিভির এক প্রতিবেদনে প্রকল্পের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৫০টি ট্রান্সফরমার চুরির তথ্য উঠে এসেছে। অন্যদিকে, মানবজমিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ৯৩ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট (সিএসসি) বাংলাদেশ রেলওয়েকে চিঠি দিয়ে পুরো প্রকল্প করিডরে নিয়মিত চুরি ও নাশকতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

রেলওয়ে সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুরি হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে রেললাইন-সংশ্লিষ্ট ৪২ ধরনের সামগ্রী রয়েছে। এ ছাড়া সেতু, কালভার্ট, আন্ডারপাস ও ভায়াডাক্ট থেকে ৮ ধরনের, স্টেশন ও ভবন থেকে ১৩ ধরনের, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার ১৬ ধরনের এবং সিগন্যাল ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার ১৪ ধরনের সরঞ্জাম চুরির তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে সময় টিভির এক প্রতিবেদনে ট্র্যাক ট্রান্সফরমার, ট্র্যাক পট ও সিগন্যাল কেবলসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির বিষয়টি উঠে আসে। এসব সরঞ্জাম চুরির কারণে কোথাও কোথাও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। ফলে রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জনবল সংকট, সীমিত ট্রেন চলাচল এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাবকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্র রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও যন্ত্রাংশ চুরি করছে। এসব চুরির ফলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও সিগন্যাল ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বিশেষ করে রেললাইনের সিগন্যাল ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব সরঞ্জামের কার্যকারিতা ব্যাহত হলে ট্রেন পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। যথাসময়ে চুরি হওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবস্থা মেরামত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দেশের অন্যতম বৃহৎ রেল অবকাঠামো পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প। বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই রেলপথের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ধারাবাহিকভাবে যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; বরং প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

এ অবস্থায় প্রকল্পের পুরো রেল করিডরে নিরাপত্তা জোরদার, চুরির ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক ও সিগন্যাল সরঞ্জামের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পদ্মা রেলপথে ৯৩ ধরনের যন্ত্রাংশ চুরি, ঝুঁকিতে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে একের পর এক চুরির ঘটনায় রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত প্রায় ৫০টি ট্রান্সফরমার চুরির পাশাপাশি রেলপথের ৯৩ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যন্ত্রাংশ চুরির তথ্য সামনে এসেছে। এতে রেললাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা এবং ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

একাত্তর টিভির এক প্রতিবেদনে প্রকল্পের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৫০টি ট্রান্সফরমার চুরির তথ্য উঠে এসেছে। অন্যদিকে, মানবজমিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ৯৩ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট (সিএসসি) বাংলাদেশ রেলওয়েকে চিঠি দিয়ে পুরো প্রকল্প করিডরে নিয়মিত চুরি ও নাশকতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

রেলওয়ে সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুরি হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে রেললাইন-সংশ্লিষ্ট ৪২ ধরনের সামগ্রী রয়েছে। এ ছাড়া সেতু, কালভার্ট, আন্ডারপাস ও ভায়াডাক্ট থেকে ৮ ধরনের, স্টেশন ও ভবন থেকে ১৩ ধরনের, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার ১৬ ধরনের এবং সিগন্যাল ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার ১৪ ধরনের সরঞ্জাম চুরির তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে সময় টিভির এক প্রতিবেদনে ট্র্যাক ট্রান্সফরমার, ট্র্যাক পট ও সিগন্যাল কেবলসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির বিষয়টি উঠে আসে। এসব সরঞ্জাম চুরির কারণে কোথাও কোথাও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। ফলে রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জনবল সংকট, সীমিত ট্রেন চলাচল এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাবকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্র রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও যন্ত্রাংশ চুরি করছে। এসব চুরির ফলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও সিগন্যাল ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বিশেষ করে রেললাইনের সিগন্যাল ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব সরঞ্জামের কার্যকারিতা ব্যাহত হলে ট্রেন পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। যথাসময়ে চুরি হওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবস্থা মেরামত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দেশের অন্যতম বৃহৎ রেল অবকাঠামো পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প। বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই রেলপথের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ধারাবাহিকভাবে যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; বরং প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

এ অবস্থায় প্রকল্পের পুরো রেল করিডরে নিরাপত্তা জোরদার, চুরির ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক ও সিগন্যাল সরঞ্জামের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।


দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির) 

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক রেলওয়ে বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত