ঢাকা   বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

চট্টগ্রাম-সিলেট থেকে তুরস্কে সরাসরি ফ্লাইট চান বিমানমন্ত্রী



চট্টগ্রাম-সিলেট থেকে তুরস্কে সরাসরি ফ্লাইট চান বিমানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিমান যোগাযোগ বাড়াতে ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে আরও তিনটি ফ্লাইট চালুর প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠকে তুরস্কের প্রতিনিধিদলে দেশটির দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর বিলাল বেলিউর্ট এবং টার্কিশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইসলাম গুরে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের পাশাপাশি বিমান চলাচল, পর্যটন, বিনিয়োগ ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বর্তমানে টার্কিশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

এ রুটে আরও তিনটি ফ্লাইট পরিচালনায় তুরস্কের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ আরও বাড়বে।

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের আন্তর্জাতিক যাতায়াতের চাহিদা রয়েছে। এসব বিমানবন্দর থেকে অতিরিক্ত ফ্লাইট চালু হলে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে তুরস্কের বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পট পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পর্যটনকেন্দ্রের অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে সরকার।

তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পর্যটন উন্নয়ন, হসপিটালিটি ও সংশ্লিষ্ট খাতে তুরস্কের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে কাজে লাগানো যেতে পারে।

এ ছাড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য তুরস্কের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ, ব্যবসা, পর্যটন ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ভিসা সুবিধা সহজ করা জরুরি।

তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ যত বাড়বে, দুই দেশের সম্পর্ক তত গভীর ও বহুমাত্রিক হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও তুরস্ককে ভিসা সুবিধা সহজীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিমান চলাচল, পর্যটন, বিনিয়োগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করে।

বিমানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণই উপকৃত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চট্টগ্রাম-সিলেট থেকে তুরস্কে সরাসরি ফ্লাইট চান বিমানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিমান যোগাযোগ বাড়াতে ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে আরও তিনটি ফ্লাইট চালুর প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠকে তুরস্কের প্রতিনিধিদলে দেশটির দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর বিলাল বেলিউর্ট এবং টার্কিশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইসলাম গুরে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের পাশাপাশি বিমান চলাচল, পর্যটন, বিনিয়োগ ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বর্তমানে টার্কিশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

এ রুটে আরও তিনটি ফ্লাইট পরিচালনায় তুরস্কের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ আরও বাড়বে।

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের আন্তর্জাতিক যাতায়াতের চাহিদা রয়েছে। এসব বিমানবন্দর থেকে অতিরিক্ত ফ্লাইট চালু হলে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে তুরস্কের বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পট পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পর্যটনকেন্দ্রের অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে সরকার।

তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পর্যটন উন্নয়ন, হসপিটালিটি ও সংশ্লিষ্ট খাতে তুরস্কের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে কাজে লাগানো যেতে পারে।

এ ছাড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য তুরস্কের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ, ব্যবসা, পর্যটন ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ভিসা সুবিধা সহজ করা জরুরি।

তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ যত বাড়বে, দুই দেশের সম্পর্ক তত গভীর ও বহুমাত্রিক হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও তুরস্ককে ভিসা সুবিধা সহজীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিমান চলাচল, পর্যটন, বিনিয়োগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করে।

বিমানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণই উপকৃত হবে।


দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির) 

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক রেলওয়ে বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত