ঢাকা   বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে ‘গোপনীয়’ নথিতে যা আছে



সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে ‘গোপনীয়’ নথিতে যা আছে

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি ‘গোপনীয়’ নথি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয়। 

রোববার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া ওই নথি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

চিঠির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশি পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আটক ছিলেন।

জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম উইংয়ের পাঠানো ওই চিঠিতে মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনকে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের পাওয়া বন্দিদের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সৌদি আরবের সাইবার অপরাধ আইনে নজরুলকে আটক করা হয়। এর পরেরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয় সুইটি আক্তারকে আটক করা হয়।

চিঠি অনুযায়ী, নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দা মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তারা দুজনই ‘আল মাজাল কোম্পানিতে’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তবে ওই বন্দি তালিকায় তাদের কারো মৃত্যুদণ্ডের সাজার কথা উল্লেখ ছিল না। 

নথিতে বলা হয়, বন্দি তালিকায় ৯৭ জন বন্দির অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকলেও, এই দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলামে কোনো তথ্য দেওয়া ছিল না। 

সৌদি আরবে সাইবার আইন এবং ব্যভিচারের অপরাধে আগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যমতে, এর আগে সৌদি আরবে সাইবার অপরাধে বা ব্যভিচারের অভিযোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, এমন কোনো নজির নেই। 

নথি অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানে ৩০৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪৭ জনের কারাদণ্ডের মেয়াদ এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। এতে সাইবার অপরাধের তিনটি আলাদা মামলার উল্লে­খ রয়েছে, যেখানে কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত ছিল।

এতে আরও বলা হয়েছে যে, সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড বা তা কার্যকর করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে কোনোভাবেই বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট জেনারেলকে অবহিত করেনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি ‘নোট ভার্বাল’ পাঠিয়েছে, যেখানে রায়ের অনুলিপি এবং বিচার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। 

কনস্যুলেট জানিয়েছে, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হবে।  

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে ‘গোপনীয়’ নথিতে যা আছে

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি ‘গোপনীয়’ নথি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয়। 

রোববার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া ওই নথি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

চিঠির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশি পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আটক ছিলেন।

জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম উইংয়ের পাঠানো ওই চিঠিতে মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনকে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের পাওয়া বন্দিদের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সৌদি আরবের সাইবার অপরাধ আইনে নজরুলকে আটক করা হয়। এর পরেরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয় সুইটি আক্তারকে আটক করা হয়।

চিঠি অনুযায়ী, নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দা মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তারা দুজনই ‘আল মাজাল কোম্পানিতে’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তবে ওই বন্দি তালিকায় তাদের কারো মৃত্যুদণ্ডের সাজার কথা উল্লেখ ছিল না। 

নথিতে বলা হয়, বন্দি তালিকায় ৯৭ জন বন্দির অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকলেও, এই দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলামে কোনো তথ্য দেওয়া ছিল না। 

সৌদি আরবে সাইবার আইন এবং ব্যভিচারের অপরাধে আগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যমতে, এর আগে সৌদি আরবে সাইবার অপরাধে বা ব্যভিচারের অভিযোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, এমন কোনো নজির নেই। 

নথি অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানে ৩০৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪৭ জনের কারাদণ্ডের মেয়াদ এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। এতে সাইবার অপরাধের তিনটি আলাদা মামলার উল্লে­খ রয়েছে, যেখানে কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত ছিল।

এতে আরও বলা হয়েছে যে, সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড বা তা কার্যকর করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে কোনোভাবেই বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট জেনারেলকে অবহিত করেনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি ‘নোট ভার্বাল’ পাঠিয়েছে, যেখানে রায়ের অনুলিপি এবং বিচার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। 

কনস্যুলেট জানিয়েছে, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হবে।  


দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির) 

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক রেলওয়ে বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত