ঢাকা   শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

ছুটির দিনেও সবজিতে অস্বস্তি



ছুটির দিনেও সবজিতে অস্বস্তি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে বুধবার (২৬ আগস্ট) সরকারি ছুটির দিন। ছুটির দিনে বাজারে ক্রেতার আগমন কম থাকলেও মাছ, মাংস কিংবা সবজির বাজার স্বস্তিদায়ক নয়। বাজারভেদে দামে সামান্য তারতম্য থাকলেও বেশিরভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ১৬০ টাকায়। তবে ডিমের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। মাছ ও মাংসের বাড়তি দামের সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির এই চড়া মূল্যে নাভিশ্বাস উঠছে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের।

সকালে রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে পণ্যের দামের এই চিত্র দেখা গেছে। প্রতিটি বাজারেই পণ্যের দামে ১০ থেকে ২০ টাকার পরিবর্তন রয়েছে।  

সরেজমিন দেখা যায়, বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। তবে তুলনামূলক কিছুটা কম দামে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমেই বাজারে আসা শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে, কেজি ৪০ টাকা।

এদিকে সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে একমাত্র স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। কয়েক সপ্তাহ আগে যে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায় ঠেকেছিল, সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা এখন মানভেদে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দাম সবচেয়ে বেশি এমন সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা ও টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙা ও করলার কেজি ৮০ টাকা। লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

সবজি কিনতে আসা রাবেয়া বেগম বলেন, আগে কম টাকায় এক ব্যাগ সবজি কিনতাম, এখন এক ব্যাগ টাকায়ও সবজিতে ব্যাগ ভরে না। দেশে উৎপাদিত সব সবজির দাম বেশি। ব্যবসায়ীদের ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণের কারণে সাধারণ ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছেন।

রায়ের বাজারের সবজির ক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, আগে ১০০ টাকায় কয়েক পদের সবজি কেনা গেলেও এখন এক কেজি সবজি কিনতেই ৮০ থেকে ১০০ টাকা লেগে যায়। ফলে এক হাজার টাকার বাজারে সামান্য পণ্য নিয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

অন্যদিকে বিক্রেতারা দাম বৃদ্ধির পেছনে বৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত কারণকে দায়ী করছেন। ব্যবসায়ী দিদারুল আলম বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটেছে এবং মোকাম পর্যায় থেকে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। যার প্রভাব বাজারে পড়েছে। আজকে অন্যান্য দিনের মতোই। সবজির দাম সময়ের সঙ্গে কম বেশি হয়।

বাজারে আরো ঘুরে দেখা যায়, মুরগি বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দাম আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ১৫০ টাকা ও চারটি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এক ডজন ডিম কিনলে বিক্রেতারা দুই টাকা কম রাখলেও এখন তা হচ্ছে না। ডিম বিক্রেতা মাসুম বলেন, এখন ফার্মের মুরগি ডিম ডজন ১৫০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।  

এদিকে মাছের বাজারেরও একই চিত্র। তেলাপিয়া কেজি ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০- ২৫০, রুই-কাতল ৩৮০-৪২০ এবং চিংড়ি ১০০০-১৩০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে।  

মাছ বিক্রেতা কাইয়ূম বলেন, মাছের দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় মাছের বাজারে একদিন ২০ থেকে ৩০ টাকা কমছে তো পরদিনই আবার বাড়ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


ছুটির দিনেও সবজিতে অস্বস্তি

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে বুধবার (২৬ আগস্ট) সরকারি ছুটির দিন। ছুটির দিনে বাজারে ক্রেতার আগমন কম থাকলেও মাছ, মাংস কিংবা সবজির বাজার স্বস্তিদায়ক নয়। বাজারভেদে দামে সামান্য তারতম্য থাকলেও বেশিরভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ১৬০ টাকায়। তবে ডিমের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। মাছ ও মাংসের বাড়তি দামের সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির এই চড়া মূল্যে নাভিশ্বাস উঠছে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের।

সকালে রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে পণ্যের দামের এই চিত্র দেখা গেছে। প্রতিটি বাজারেই পণ্যের দামে ১০ থেকে ২০ টাকার পরিবর্তন রয়েছে।  

সরেজমিন দেখা যায়, বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। তবে তুলনামূলক কিছুটা কম দামে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমেই বাজারে আসা শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে, কেজি ৪০ টাকা।

এদিকে সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে একমাত্র স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। কয়েক সপ্তাহ আগে যে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায় ঠেকেছিল, সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা এখন মানভেদে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দাম সবচেয়ে বেশি এমন সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা ও টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙা ও করলার কেজি ৮০ টাকা। লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।

সবজি কিনতে আসা রাবেয়া বেগম বলেন, আগে কম টাকায় এক ব্যাগ সবজি কিনতাম, এখন এক ব্যাগ টাকায়ও সবজিতে ব্যাগ ভরে না। দেশে উৎপাদিত সব সবজির দাম বেশি। ব্যবসায়ীদের ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণের কারণে সাধারণ ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছেন।

রায়ের বাজারের সবজির ক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, আগে ১০০ টাকায় কয়েক পদের সবজি কেনা গেলেও এখন এক কেজি সবজি কিনতেই ৮০ থেকে ১০০ টাকা লেগে যায়। ফলে এক হাজার টাকার বাজারে সামান্য পণ্য নিয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

অন্যদিকে বিক্রেতারা দাম বৃদ্ধির পেছনে বৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত কারণকে দায়ী করছেন। ব্যবসায়ী দিদারুল আলম বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটেছে এবং মোকাম পর্যায় থেকে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। যার প্রভাব বাজারে পড়েছে। আজকে অন্যান্য দিনের মতোই। সবজির দাম সময়ের সঙ্গে কম বেশি হয়।

বাজারে আরো ঘুরে দেখা যায়, মুরগি বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দাম আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ১৫০ টাকা ও চারটি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এক ডজন ডিম কিনলে বিক্রেতারা দুই টাকা কম রাখলেও এখন তা হচ্ছে না। ডিম বিক্রেতা মাসুম বলেন, এখন ফার্মের মুরগি ডিম ডজন ১৫০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।  

এদিকে মাছের বাজারেরও একই চিত্র। তেলাপিয়া কেজি ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০- ২৫০, রুই-কাতল ৩৮০-৪২০ এবং চিংড়ি ১০০০-১৩০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে।  

মাছ বিক্রেতা কাইয়ূম বলেন, মাছের দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় মাছের বাজারে একদিন ২০ থেকে ৩০ টাকা কমছে তো পরদিনই আবার বাড়ছে।


দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির) 

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক রেলওয়ে বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত