ঢাকা   রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

শিবচরে মরণফাঁদ রেললাইন: ২ বছরেই ৩ ডজন প্রাণহানি



শিবচরে মরণফাঁদ রেললাইন: ২ বছরেই ৩ ডজন প্রাণহানি

পদ্মা সেতু হয়ে মাদারীপুরের শিবচর থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত বিস্তৃত রেললাইন এখন স্থানীয়দের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রেললাইনে আড্ডা, সেলফি তোলা ও হাঁটাহাঁটি করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। 

শিবচর রেলওয়ে কতৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত শুধু শিবচর অংশেই রেলে কাটা পড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৬ জন ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ছবি তুলতে ও ঘুরতে এসে মারা গেছেন কমপক্ষে ১৮ জন। বাকিরা রেললাইন পারাপারের সময় দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যাজনিত কারণে মারা গেছেন।

জানা যায়, পদ্মা সেতুর জাজিরা পয়েন্ট থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব ৩১ কিলোমিটার। এর মধ্যে মাদারীপুর জেলার শিবচরে পদ্মা ও শিবচর নামে দুটি স্টেশন রয়েছে। ঢাকার কমলাপুর থেকে রাজশাহী, খুলনা ও বেনাপোল পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করে এই রুটে।

এই এলাকায় নতুন রেললাইন নির্মাণ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল বেশি। প্রতিদিন বিকাল হলেই রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিশেষ করে শিবচরের পাঁচ্চর, সূর্যনগর, মালিগ্রাম ও পুলিয়া এলাকায় বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভ্রমণপ্রেমীদের আড্ডা বসে। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ঘুরতে আসেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অরক্ষিত রেললাইন, জনসচেতনতার অভাব এবং দ্রুতগতির ট্রেন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। স্থানীয়রা রেললাইনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বেড়া দেওয়া এবং সন্ধ্যার পর টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. সেলিম হোসেন বলেন, ঢাকা-বেনাপোল রুটটি খুবই গতিশীল একটি রুট। আমরা বারবার মাইকিং করে এবং সাইনবোর্ড টানিয়ে অযাচিতভাবে রেললাইনে বিচরণ করতে নিষেধ করছি। বিশেষ করে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত রেললাইনে হাঁটাহাঁটি বন্ধ করার জন্য বলা হচ্ছে। মানুষ সচেতন না হলে দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


শিবচরে মরণফাঁদ রেললাইন: ২ বছরেই ৩ ডজন প্রাণহানি

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পদ্মা সেতু হয়ে মাদারীপুরের শিবচর থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত বিস্তৃত রেললাইন এখন স্থানীয়দের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রেললাইনে আড্ডা, সেলফি তোলা ও হাঁটাহাঁটি করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। 

শিবচর রেলওয়ে কতৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত শুধু শিবচর অংশেই রেলে কাটা পড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৬ জন ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ছবি তুলতে ও ঘুরতে এসে মারা গেছেন কমপক্ষে ১৮ জন। বাকিরা রেললাইন পারাপারের সময় দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যাজনিত কারণে মারা গেছেন।

জানা যায়, পদ্মা সেতুর জাজিরা পয়েন্ট থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব ৩১ কিলোমিটার। এর মধ্যে মাদারীপুর জেলার শিবচরে পদ্মা ও শিবচর নামে দুটি স্টেশন রয়েছে। ঢাকার কমলাপুর থেকে রাজশাহী, খুলনা ও বেনাপোল পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করে এই রুটে।

এই এলাকায় নতুন রেললাইন নির্মাণ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল বেশি। প্রতিদিন বিকাল হলেই রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিশেষ করে শিবচরের পাঁচ্চর, সূর্যনগর, মালিগ্রাম ও পুলিয়া এলাকায় বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভ্রমণপ্রেমীদের আড্ডা বসে। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ঘুরতে আসেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অরক্ষিত রেললাইন, জনসচেতনতার অভাব এবং দ্রুতগতির ট্রেন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। স্থানীয়রা রেললাইনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বেড়া দেওয়া এবং সন্ধ্যার পর টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. সেলিম হোসেন বলেন, ঢাকা-বেনাপোল রুটটি খুবই গতিশীল একটি রুট। আমরা বারবার মাইকিং করে এবং সাইনবোর্ড টানিয়ে অযাচিতভাবে রেললাইনে বিচরণ করতে নিষেধ করছি। বিশেষ করে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত রেললাইনে হাঁটাহাঁটি বন্ধ করার জন্য বলা হচ্ছে। মানুষ সচেতন না হলে দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন।


দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির) 

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক রেলওয়ে বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত