ঢাকা   বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

উত্তরায় মহাসড়ক অবরোধ, পথে পথে দুর্ভোগ



উত্তরায় মহাসড়ক অবরোধ, পথে পথে দুর্ভোগ

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর ও জসিমউদ্দিন এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে মহাসড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘ প্রচেষ্টায় শ্রমিকরা মহাসড়কের একাংশ থেকে সরে দাঁড়ালেও যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে মহাসড়কটি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার পর থেকে মহাসড়কের ওপর শত শত শ্রমিক অবস্থান নিলে মহাসড়কটির দুপাড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, গণপরিবহণের যাত্রী ও পথচারীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দক্ষিণখান ও উত্তরখান এলাকা থেকে এসব শ্রমিকরা গত দুদিন ধরে মহাসড়ক অবরোধ করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজও তারা মহাসড়কটি অবরোধ করেছেন। আন্দোলনকারীদের মাথায় লাল ব্যাজ থাকার পাশাপাশি অনেকের হাতেই লাঠিসোঠা থাকতে দেখা গেছে।

বেলা ১১টায় উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ঈশা খাঁ এভিনিউ হয়ে একদল পোশাকশ্রমিক জসিমউদ্দিন এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বাড়ানোর দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেও তাদের আর্থিক সংকটের সমাধান হচ্ছে না। বর্তমান বাজারদরে স্বল্প আয়ে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তাই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথে নেমেছেন তারা।

অপরদিকে, মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলায় মহাসড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা অবরোধের কারণে মহাসড়কে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকারসহ তৈরি হয় বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। যানজট ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরার বিভিন্ন সংযোগ সড়কেও। এতে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না অনেক যাত্রী। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকার পর অনেকেই বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।

যানজটে আটকে পড়া যাত্রী হাসান হাবিবুল্লাহ জানান, সকালে জরুরি কাজে বের হয়েছি। কিন্তু সড়কে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আটকে পড়ে যাই। অনেক সময় বাসে অপেক্ষার পর হেঁটেই যাচ্ছি।

পথচারী ও গণপরিবহণের যাত্রীদের অভিযোগ, মহাসড়ক অবরোধের কারণে বিকল্প পথেও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন সংযোগ সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেখানেও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্বল্প দূরত্বের পথ অতিক্রম করতেও দীর্ঘ সময় লাগছে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, বেলা ১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরোধে মহাসড়কের একাংশ ছেড়ে দিতে সম্মত হন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। এর ফলে অবরোধে আটকে পড়া অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলাচল শুরু করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মোর্শেদ আলম যুগান্তরকে বলেন, মহাসড়কে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে সতর্কতার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


উত্তরায় মহাসড়ক অবরোধ, পথে পথে দুর্ভোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর ও জসিমউদ্দিন এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে মহাসড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘ প্রচেষ্টায় শ্রমিকরা মহাসড়কের একাংশ থেকে সরে দাঁড়ালেও যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে মহাসড়কটি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার পর থেকে মহাসড়কের ওপর শত শত শ্রমিক অবস্থান নিলে মহাসড়কটির দুপাড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, গণপরিবহণের যাত্রী ও পথচারীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দক্ষিণখান ও উত্তরখান এলাকা থেকে এসব শ্রমিকরা গত দুদিন ধরে মহাসড়ক অবরোধ করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজও তারা মহাসড়কটি অবরোধ করেছেন। আন্দোলনকারীদের মাথায় লাল ব্যাজ থাকার পাশাপাশি অনেকের হাতেই লাঠিসোঠা থাকতে দেখা গেছে।

বেলা ১১টায় উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ঈশা খাঁ এভিনিউ হয়ে একদল পোশাকশ্রমিক জসিমউদ্দিন এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বাড়ানোর দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেও তাদের আর্থিক সংকটের সমাধান হচ্ছে না। বর্তমান বাজারদরে স্বল্প আয়ে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তাই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথে নেমেছেন তারা।

অপরদিকে, মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলায় মহাসড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা অবরোধের কারণে মহাসড়কে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকারসহ তৈরি হয় বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। যানজট ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরার বিভিন্ন সংযোগ সড়কেও। এতে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না অনেক যাত্রী। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকার পর অনেকেই বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।

যানজটে আটকে পড়া যাত্রী হাসান হাবিবুল্লাহ জানান, সকালে জরুরি কাজে বের হয়েছি। কিন্তু সড়কে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আটকে পড়ে যাই। অনেক সময় বাসে অপেক্ষার পর হেঁটেই যাচ্ছি।

পথচারী ও গণপরিবহণের যাত্রীদের অভিযোগ, মহাসড়ক অবরোধের কারণে বিকল্প পথেও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন সংযোগ সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেখানেও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্বল্প দূরত্বের পথ অতিক্রম করতেও দীর্ঘ সময় লাগছে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, বেলা ১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরোধে মহাসড়কের একাংশ ছেড়ে দিতে সম্মত হন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। এর ফলে অবরোধে আটকে পড়া অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলাচল শুরু করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মোর্শেদ আলম যুগান্তরকে বলেন, মহাসড়কে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে সতর্কতার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।



দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির) 

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক রেলওয়ে বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত