ঢাকা   বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে দুই বছরে ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, আসামি ৫৫৮



পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে দুই বছরে ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, আসামি ৫৫৮

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দুই বছরে সাতটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। দুই ট্রাইব্যুনালে ৭০টি মামলায় ৫৫৮ জন আসামির মধ্যে পলাতক রয়েছেন ৩৫২ জন।

দুই বছরের বিচারকাজের বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আজ (১৪ অক্টোবর) দুই বছর পূর্ণ হলো। দুই বছরে আমাদের অর্জন ও সীমাবদ্ধতা আছে।

তবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে কাজ করে যাব। জুলাইয়ের আত্মত্যাগের মাধ্যমে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদী বিচার ফিরবে না।

২০১০ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। পরে ২০১২ সালের ২২ মার্চ আরও একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

এর মধ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে ট্রাইব্যুনাল-১-এ ৪৪টি এবং ট্রাইব্যুনাল-২-এ মোট ১১টি মামলার রায় দেওয়া হয়।

এসব রায়ে ছয় আসামির দণ্ড কার্যকর করে আওয়ামী লীগ সরকার। তারা হলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মীর কাসেম আলী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৎকালীন সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। ওই সময়ে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা ও ২৫ হাজার মানুষকে আহত করার অভিযোগের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর করা মোট ৭০টি মামলার মধ্যে ২৬টি বিচারাধীন রয়েছে। আর সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। একটি মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। এসব মামলায় ৫৫৮ জন আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন ২০৩ জন। পলাতক রয়েছেন ৩৫২ জন। এর মধ্যে একজন আসামি মারা গেছেন। আর খালাস পেয়েছেন একজন।

ট্রাইব্যুনাল-১-এ বর্তমানে ১২টি বিডি কেস (১২০ জন আসামি) এবং ৩১টি মিস কেস (১৩৩ জন আসামি) বিচারাধীন রয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালে মোট ২৫৩ জন আসামির মধ্যে ১০৫ জন গ্রেপ্তার হলেও ১৪৭ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনটি মামলায় আটজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুটি কনটেম্পট পিটিশন (আদালত অবমাননা) মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল-২-এ ১৪টি বিডি কেসে ২০৮ জন আসামি এবং ১৩টি মিস কেসে ২৭ জন আসামি বিচারাধীন রয়েছেন। এই ট্রাইব্যুনালের অধীনে মোট ২৩৫ জন আসামির মধ্যে ৭৮ জন গ্রেপ্তার এবং ১৫৭ জন পলাতক। ট্রাইব্যুনাল-২-এ চারটি মামলার রায়ে ১৫ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দুটি ট্রাইব্যুনাল মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ২৩ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৩৭ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নিষ্পত্তি হওয়া সাতটি মামলায় মোট ৬৩ জন আসামির বিচার শেষ হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন খালাস পেয়েছেন এবং একজন গ্রেপ্তারকালীন সময় পর্যন্ত সাজা পেয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে দুই বছরে ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, আসামি ৫৫৮

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দুই বছরে সাতটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। দুই ট্রাইব্যুনালে ৭০টি মামলায় ৫৫৮ জন আসামির মধ্যে পলাতক রয়েছেন ৩৫২ জন।

দুই বছরের বিচারকাজের বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আজ (১৪ অক্টোবর) দুই বছর পূর্ণ হলো। দুই বছরে আমাদের অর্জন ও সীমাবদ্ধতা আছে।

তবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে কাজ করে যাব। জুলাইয়ের আত্মত্যাগের মাধ্যমে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদী বিচার ফিরবে না।

২০১০ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। পরে ২০১২ সালের ২২ মার্চ আরও একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

এর মধ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে ট্রাইব্যুনাল-১-এ ৪৪টি এবং ট্রাইব্যুনাল-২-এ মোট ১১টি মামলার রায় দেওয়া হয়।

এসব রায়ে ছয় আসামির দণ্ড কার্যকর করে আওয়ামী লীগ সরকার। তারা হলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মীর কাসেম আলী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৎকালীন সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। ওই সময়ে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা ও ২৫ হাজার মানুষকে আহত করার অভিযোগের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর করা মোট ৭০টি মামলার মধ্যে ২৬টি বিচারাধীন রয়েছে। আর সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। একটি মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। এসব মামলায় ৫৫৮ জন আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন ২০৩ জন। পলাতক রয়েছেন ৩৫২ জন। এর মধ্যে একজন আসামি মারা গেছেন। আর খালাস পেয়েছেন একজন।

ট্রাইব্যুনাল-১-এ বর্তমানে ১২টি বিডি কেস (১২০ জন আসামি) এবং ৩১টি মিস কেস (১৩৩ জন আসামি) বিচারাধীন রয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালে মোট ২৫৩ জন আসামির মধ্যে ১০৫ জন গ্রেপ্তার হলেও ১৪৭ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনটি মামলায় আটজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুটি কনটেম্পট পিটিশন (আদালত অবমাননা) মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল-২-এ ১৪টি বিডি কেসে ২০৮ জন আসামি এবং ১৩টি মিস কেসে ২৭ জন আসামি বিচারাধীন রয়েছেন। এই ট্রাইব্যুনালের অধীনে মোট ২৩৫ জন আসামির মধ্যে ৭৮ জন গ্রেপ্তার এবং ১৫৭ জন পলাতক। ট্রাইব্যুনাল-২-এ চারটি মামলার রায়ে ১৫ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দুটি ট্রাইব্যুনাল মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ২৩ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৩৭ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নিষ্পত্তি হওয়া সাতটি মামলায় মোট ৬৩ জন আসামির বিচার শেষ হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন খালাস পেয়েছেন এবং একজন গ্রেপ্তারকালীন সময় পর্যন্ত সাজা পেয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান প্রমুখ।


দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির) 

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক রেলওয়ে বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত