মেহেদির রং না মুছতেই শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে লিমা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর লিমা আক্তার হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের মাঝিয়াইল গ্রামের সাইদুল ইসলামের কন্যা। তার স্বামীর নাম একরামুল হক (২২) ও শাশুড়ি ফরিদা বেগম (৫০)।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পারিবারিকভাবে গোপালপুর গ্রামের একরামুলের সাথে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয় লিমা আক্তারের। রোববার স্বামীসহ বাবার বাড়ি বেড়াতে যান লিমা। মঙ্গলবার বিকেলে শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন। এ সময় বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়ায় এ নিয়ে শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। এরপর রাত তিনটার দিকে লিমার ভগ্নিপতিকে একরামুল ফোন করেন এবং লিমা অসুস্থ বলে তিনি দাবি করেন।
পরে লিমাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন রাত চারটার দিকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে জানান। তবে লিমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় পুলিশকে জানানো হলে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফাহাদ রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নববধূর মৃত্যু হয়েছিল।
লিমার স্বজনরা অভিযোগ করেন, বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়ায় ঝগড়ার একপর্যায়ে নির্যাতন করে লিমাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে।
তবে স্বামী একরামুল জানান, মাঝরাতে ঘুম থেকে জেগে হঠাৎ দরজা খোলা দেখে তিনি বাইরে বের হন। এ সময় পাশের সেমিপাকা ঘরের বাইরে ওড়না দিয়ে স্ত্রী লিমার মরদেহ ঝুলে থাকতে দেখেন তিনি এবং নিজেই নামিয়ে এনে সবাইকে জানান।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানান, নববধূর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী একরামুল ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
মেহেদির রং না মুছতেই শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে লিমা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর লিমা আক্তার হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের মাঝিয়াইল গ্রামের সাইদুল ইসলামের কন্যা। তার স্বামীর নাম একরামুল হক (২২) ও শাশুড়ি ফরিদা বেগম (৫০)।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পারিবারিকভাবে গোপালপুর গ্রামের একরামুলের সাথে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয় লিমা আক্তারের। রোববার স্বামীসহ বাবার বাড়ি বেড়াতে যান লিমা। মঙ্গলবার বিকেলে শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন। এ সময় বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়ায় এ নিয়ে শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। এরপর রাত তিনটার দিকে লিমার ভগ্নিপতিকে একরামুল ফোন করেন এবং লিমা অসুস্থ বলে তিনি দাবি করেন।
পরে লিমাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন রাত চারটার দিকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে জানান। তবে লিমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় পুলিশকে জানানো হলে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফাহাদ রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নববধূর মৃত্যু হয়েছিল।
লিমার স্বজনরা অভিযোগ করেন, বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়ায় ঝগড়ার একপর্যায়ে নির্যাতন করে লিমাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে।
তবে স্বামী একরামুল জানান, মাঝরাতে ঘুম থেকে জেগে হঠাৎ দরজা খোলা দেখে তিনি বাইরে বের হন। এ সময় পাশের সেমিপাকা ঘরের বাইরে ওড়না দিয়ে স্ত্রী লিমার মরদেহ ঝুলে থাকতে দেখেন তিনি এবং নিজেই নামিয়ে এনে সবাইকে জানান।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানান, নববধূর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী একরামুল ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আপনার মতামত লিখুন