ঢাকা   বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এলঅ্যান্ডটি



ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এলঅ্যান্ডটি

ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্যাকেজের নকশা ও নির্মাণকাজের চুক্তি পেয়েছে ভারতের অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। ভারতীয় মুদ্রায় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের এই চুক্তির আওতায় রেললাইন, বিদ্যুৎ সরবরাহ, সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করা হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১ বাংলাদেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্প। এর মাধ্যমে রাজধানীতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

চুক্তির আওতায় দুটি প্যাকেজের কাজ করবে এলঅ্যান্ডটি। সিপি০৯ প্যাকেজে রেললাইন স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা, ট্র্যাকশন সাবস্টেশন এবং ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থার নকশা, সরঞ্জাম সংগ্রহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালুর কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব কাজ জাপানি প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে করবে এলঅ্যান্ডটি।

অন্যদিকে, সিপি১০ প্যাকেজের আওতায় পুরো নেটওয়ার্কে সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করা হবে। প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল লাইন-১-এর দুটি রুট রয়েছে। একটি কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এবং অন্যটি নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রকল্পটিতে মোট ১৯টি স্টেশন এবং পিতলগঞ্জে একটি ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল করিডর লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলব্যবস্থা স্থাপনের কাজও পেয়েছিল এলঅ্যান্ডটি। প্রতিষ্ঠানটি ওই কাজ সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে লাইন-৬ বাণিজ্যিকভাবে চালু রয়েছে।

এলঅ্যান্ডটির পরিবহন অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান রামকুমার এস বলেন, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে নতুন চুক্তি পাওয়া বৃহৎ ও সমন্বিত নগর পরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতার প্রমাণ। লাইন-৬-এ কাজের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রকল্পে অর্জিত দক্ষতা লাইন-১ বাস্তবায়নে কাজে লাগানো হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঢাকায় তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের মোট ব্যয় পরিকল্পনা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। রাজধানীতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেলসহ মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদনের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, জাপানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এলঅ্যান্ডটি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্যাকেজের নকশা ও নির্মাণকাজের চুক্তি পেয়েছে ভারতের অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। ভারতীয় মুদ্রায় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের এই চুক্তির আওতায় রেললাইন, বিদ্যুৎ সরবরাহ, সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করা হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১ বাংলাদেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্প। এর মাধ্যমে রাজধানীতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

চুক্তির আওতায় দুটি প্যাকেজের কাজ করবে এলঅ্যান্ডটি। সিপি০৯ প্যাকেজে রেললাইন স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা, ট্র্যাকশন সাবস্টেশন এবং ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থার নকশা, সরঞ্জাম সংগ্রহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালুর কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব কাজ জাপানি প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে করবে এলঅ্যান্ডটি।

অন্যদিকে, সিপি১০ প্যাকেজের আওতায় পুরো নেটওয়ার্কে সংকেতব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করা হবে। প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল লাইন-১-এর দুটি রুট রয়েছে। একটি কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এবং অন্যটি নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রকল্পটিতে মোট ১৯টি স্টেশন এবং পিতলগঞ্জে একটি ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল করিডর লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলব্যবস্থা স্থাপনের কাজও পেয়েছিল এলঅ্যান্ডটি। প্রতিষ্ঠানটি ওই কাজ সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে লাইন-৬ বাণিজ্যিকভাবে চালু রয়েছে।

এলঅ্যান্ডটির পরিবহন অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান রামকুমার এস বলেন, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে নতুন চুক্তি পাওয়া বৃহৎ ও সমন্বিত নগর পরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতার প্রমাণ। লাইন-৬-এ কাজের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রকল্পে অর্জিত দক্ষতা লাইন-১ বাস্তবায়নে কাজে লাগানো হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঢাকায় তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের মোট ব্যয় পরিকল্পনা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। রাজধানীতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেলসহ মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদনের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, জাপানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।


দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মো: মনিরুজ্জামান (মনির) 

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক রেলওয়ে বার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত