পুরুষের শারীরিক গঠন, পেশির শক্তি, যৌন আকাঙ্ক্ষা ও প্রজননস্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে টেস্টোস্টেরন হরমোন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই হরমোনের মাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে কিছু শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়াকে হাইপোগোনাডিজম বলা হয়। এ অবস্থায় শুরুতে কিছু উপসর্গ সাধারণ ক্লান্তি বা বয়সজনিত পরিবর্তন বলে মনে হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
টেস্টোস্টেরন কমে গেলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
১. ক্লান্তি ও শক্তি কমে যাওয়া
পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও ক্লান্তি অনুভব করা, কাজে আগ্রহ ও শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া টেস্টোস্টেরন ঘাটতির সম্ভাব্য লক্ষণ। তবে এসব উপসর্গের পেছনে রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা ঘুমের ঘাটতির মতো কারণও থাকতে পারে।
২. পেশির শক্তি কমে যাওয়া ও মেদ বৃদ্ধি
টেস্টোস্টেরন পেশির গঠন ও শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। এর মাত্রা কমে গেলে পেশির ভর কমতে পারে এবং শরীরে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়তে পারে।
৩. যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া
যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া টেস্টোস্টেরন ঘাটতির অন্যতম পরিচিত লক্ষণ। পাশাপাশি কিছু পুরুষের ক্ষেত্রে সকালের স্বাভাবিক উত্থান কমে যাওয়া বা উত্থানজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
৪. বিষণ্নতা ও মনোযোগের ঘাটতি
হরমোনের মাত্রা কমে গেলে কোনো কোনো পুরুষের মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মন খারাপ থাকা, কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা এবং উদ্যম কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব উপসর্গের সঙ্গে বিষণ্নতা বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যারও সম্পর্ক থাকতে পারে।
৫. হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া
টেস্টোস্টেরন হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন এই হরমোনের মাত্রা কম থাকলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে পারে এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৬. শরীরের লোম কমে যাওয়া
টেস্টোস্টেরনের ঘাটতিতে দাড়ি-গোঁফসহ শরীরের লোমের বৃদ্ধি কমে যেতে পারে। তবে শুধু লোম কমে যাওয়াকে এই হরমোনের ঘাটতির নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
৭. ঘুম ও প্রজননস্বাস্থ্যে সমস্যা
টেস্টোস্টেরনের ঘাটতির সঙ্গে ঘুমের সমস্যা এবং শুক্রাণু উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে। বিশেষ করে সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কেন কমে যায় টেস্টোস্টেরন?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে। এ ছাড়া স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী কিছু রোগ, শুক্রাশয়ে আঘাত বা সংক্রমণ এবং মস্তিষ্কের হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী পিটুইটারি গ্রন্থির সমস্যা এর কারণ হতে পারে। কিছু ওষুধও হরমোনের মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে করণীয়
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়ক। এ জন্য নিয়মিত ব্যায়াম, শক্তিবর্ধক শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলাও উপকারী।
প্লাস্টিক ও প্রসাধনসামগ্রীর কিছু রাসায়নিকের সম্ভাব্য হরমোনগত প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে। তাই অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিকের সংস্পর্শ কমানো যেতে পারে। তবে এসব রাসায়নিক এড়িয়ে চললেই টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
দীর্ঘদিন ধরে যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, পেশির শক্তি কমে যাওয়া বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক সকালে রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পরীক্ষা করতে পারেন। সাধারণত রোগ নির্ণয়ের জন্য উপসর্গের পাশাপাশি পৃথক দিনে করা দুটি সকালের পরীক্ষায় হরমোনের মাত্রা কম পাওয়া নিশ্চিত করা হয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া টেস্টোস্টেরন বাড়ানোর ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে বাহ্যিক টেস্টোস্টেরন গ্রহণ শুক্রাণু উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে এবং সন্তান নেওয়ার সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্তকরণ ও উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যার কার্যকর ব্যবস্থাপনা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
পুরুষের শারীরিক গঠন, পেশির শক্তি, যৌন আকাঙ্ক্ষা ও প্রজননস্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে টেস্টোস্টেরন হরমোন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই হরমোনের মাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে কিছু শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়াকে হাইপোগোনাডিজম বলা হয়। এ অবস্থায় শুরুতে কিছু উপসর্গ সাধারণ ক্লান্তি বা বয়সজনিত পরিবর্তন বলে মনে হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
টেস্টোস্টেরন কমে গেলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
১. ক্লান্তি ও শক্তি কমে যাওয়া
পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও ক্লান্তি অনুভব করা, কাজে আগ্রহ ও শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া টেস্টোস্টেরন ঘাটতির সম্ভাব্য লক্ষণ। তবে এসব উপসর্গের পেছনে রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা ঘুমের ঘাটতির মতো কারণও থাকতে পারে।
২. পেশির শক্তি কমে যাওয়া ও মেদ বৃদ্ধি
টেস্টোস্টেরন পেশির গঠন ও শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। এর মাত্রা কমে গেলে পেশির ভর কমতে পারে এবং শরীরে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়তে পারে।
৩. যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া
যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া টেস্টোস্টেরন ঘাটতির অন্যতম পরিচিত লক্ষণ। পাশাপাশি কিছু পুরুষের ক্ষেত্রে সকালের স্বাভাবিক উত্থান কমে যাওয়া বা উত্থানজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
৪. বিষণ্নতা ও মনোযোগের ঘাটতি
হরমোনের মাত্রা কমে গেলে কোনো কোনো পুরুষের মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মন খারাপ থাকা, কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা এবং উদ্যম কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব উপসর্গের সঙ্গে বিষণ্নতা বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যারও সম্পর্ক থাকতে পারে।
৫. হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া
টেস্টোস্টেরন হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন এই হরমোনের মাত্রা কম থাকলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে পারে এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৬. শরীরের লোম কমে যাওয়া
টেস্টোস্টেরনের ঘাটতিতে দাড়ি-গোঁফসহ শরীরের লোমের বৃদ্ধি কমে যেতে পারে। তবে শুধু লোম কমে যাওয়াকে এই হরমোনের ঘাটতির নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
৭. ঘুম ও প্রজননস্বাস্থ্যে সমস্যা
টেস্টোস্টেরনের ঘাটতির সঙ্গে ঘুমের সমস্যা এবং শুক্রাণু উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে। বিশেষ করে সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কেন কমে যায় টেস্টোস্টেরন?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে। এ ছাড়া স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী কিছু রোগ, শুক্রাশয়ে আঘাত বা সংক্রমণ এবং মস্তিষ্কের হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী পিটুইটারি গ্রন্থির সমস্যা এর কারণ হতে পারে। কিছু ওষুধও হরমোনের মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে করণীয়
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়ক। এ জন্য নিয়মিত ব্যায়াম, শক্তিবর্ধক শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলাও উপকারী।
প্লাস্টিক ও প্রসাধনসামগ্রীর কিছু রাসায়নিকের সম্ভাব্য হরমোনগত প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে। তাই অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিকের সংস্পর্শ কমানো যেতে পারে। তবে এসব রাসায়নিক এড়িয়ে চললেই টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
দীর্ঘদিন ধরে যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, পেশির শক্তি কমে যাওয়া বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক সকালে রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পরীক্ষা করতে পারেন। সাধারণত রোগ নির্ণয়ের জন্য উপসর্গের পাশাপাশি পৃথক দিনে করা দুটি সকালের পরীক্ষায় হরমোনের মাত্রা কম পাওয়া নিশ্চিত করা হয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া টেস্টোস্টেরন বাড়ানোর ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে বাহ্যিক টেস্টোস্টেরন গ্রহণ শুক্রাণু উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে এবং সন্তান নেওয়ার সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্তকরণ ও উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যার কার্যকর ব্যবস্থাপনা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন