পূজায় পুরোনো শাড়িতে স্টাইলে আনুন নতুনের ছোঁয়া, রইল ফ্যাশন টিপস
পূজায় আলমারি থেকে মায়ের কিংবা ঠাকুমার পুরোনো কাতান, জামদানি বা সুতি শাড়ি বের করে একটু ভিন্ন কায়দায় পরলেই তাতে আসবে আধুনিক ও জমকালো ফ্যাশনের ছোঁয়া। নতুন শাড়ি কেনার বাজেট বাঁচিয়ে পুরোনো শাড়িকেই উৎসবের আমেজে ফুটিয়ে তুলতে পারেন দারুণ কিছু সহজ উপায়ে।পূজায় চাই নতুন জামা। সঙ্গে মানানসই গহনা, জুতা আর ব্যাগ। কিন্তু এ বছর নতুন শাড়ি কেনা হয়নি। দুশ্চিন্তার কারণ নেই। পুরোনো শাড়ি-ই নতুন স্টাইলে পরতে পারেন। কারণ দাদি কিংবা নানির পুরোনো শাড়ি পরার মজাই আলাদা। আর সেই শাড়ি পরে পূজা অর্চনা ভিন্ন এক আমেজ তৈরি করে। তেমনই এক স্টাইল করুন, যাতে বজায় থাকে শাড়ির আভিজাত্য আর আপনার সৌন্দর্য।সে কারণে অর্চনায় বিশেষত দাদি-নানির শাড়ি পরতে পারেন। এমন ভাবে স্টাইল করুন, যাতে বজায় থাকে শাড়ির আভিজাত্য এবং আপনার সৌন্দর্য। আর স্টাইলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো— অলংকার। ইচ্ছেমতো গহনা পরলে হবে না। পূজার সময়ে ভারি গহনার বদলে হালকা অথচ জমকালো গহনা বেছে নিন। যেমন ভারি ও লম্বা কানের দুল পরলে আর হার পরবেন না, ঠিক তেমনি লম্বা চেইন সঙ্গে লকেট থাকলে কান পাশা পরতে পারেন। স্লিক চেইনের সঙ্গে ছোট্ট স্টাডই ভালো মানায়। হাতেও থাকুক ঘড়ি, ব্রেসলেট কিংবা বালা। কাচের চুড়িও পরতে পারেন। এ ছাড়া চুলেও স্টাইল করুন, যাতে লুক সম্পূর্ণ হয়।শুরুটা হোক ব্লাউজ দিয়ে। শাড়ি পুরোনো হলেও ক্ষতি নেই। ব্লাউজে চাই নতুনত্বের ছোঁয়া। এ ক্ষেত্রে ডিজাইনার ব্লাউজ বেছে নেওয়াই ভালো। রঙ মিলান্তি করে ব্লাউজ পরার দরকার নেই। বরং মিক্স-অ্যান্ড-ম্যাচ করুন। হালকা রঙের শাড়ির সঙ্গে গাঢ় রঙের ব্লাউজ বেছে নিন। শাড়ির ফ্যাব্রিকের ওপর নির্ভর করে ব্লাউজের ফ্যাব্রিক বেছে নেবেন। সুতির শাড়ির সঙ্গে সুতির ব্লাউজই বেশ মানাবে ভালো।এ ছাড়া ব্লাউজে থাকুক কারুকার্য। বাজারে এখন ডিজাইনার ব্লাউজের ছড়াছড়ি। কোনোটায় কাটদানা বা জরির কাজ, আবার কোনোটায় শুধুই সুতার কাজ। আবার কিছু ব্লাউজে বসানো সাদা লেস। পিঠে আঁকা মা দুর্গা। কাজের পাশাপাশি ব্লাউজ নেকলাইনের ওপরও জোর দিন। বোল্ড লুক চাইলে ডিপ ভি বা রাউন্ড নেক বেছে নিতে পারেন। সফট লুকের জন্য বেছে নিন অফ শ্লোডার বা হল্টার নেক। আর শাড়ি ড্রেপিংয়ের কৌশল থাকা চাই। বিশেষ করে যারা সাসটেনবল ফ্যাশনে বিশ্বাসী, একই শাড়ি বারবার পরতে ভালোবাসেন, তারা বিভিন্নভাবে সেই শাড়ি স্টাইল করুন। তার মধ্যে রয়েছে শাড়ি ড্রেপিংয়ের স্টাইলও। কোনোটা আটপৌরে করে পরতে পারেন, আবার কোনোটার আঁচল রাখতে পারেন সামনের দিকে। সঙ্গে ব্লেট, ওড়না বা শ্রাগও নিতে পারেন। ড্রেপিংয়ের সময়ে আধুনিকতার ছোঁয়া বজায় রাখুন। এমন অজস্র শাড়ি ড্রেপিংয়ের কৌশল পেয়ে যাবেন ইউটিউবে। সেখান থেকেও শিখে নিতে পারেন।এবার বেছে নিতে পারেন ঐতিহ্যে মোড়া শাড়ি। আপনার কালেকশনে গরদ, তসর, সিল্ক না-ও থাকতে পারে। তবে এ ধরনের শাড়ি মায়েদের কালেকশনে বেশি থাকে। পছন্দ অনুযায়ী শাড়ি বেছে নিন। সপ্তমীর রাতের জন্য অসম সিল্ক কিংবা মোডাল সিল্ক বেছে নিতে পারেন। আবার অষ্টমীর সকালে হালকা রঙের ঢাকাই জামদানি দিয়ে দারুণ স্টাইল করা যায়। অষ্টমীর রাতের জন্য গরদ বা খাতান বেছে নিতে পারেন। নবমীর সাজে থাকুক অরগেঞ্জা কিংবা শিফন।