ঢাকা   সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক রেলওয়ে বার্তা

সারাদেশ

দুই হাত ছাড়াই গড়েছেন স্কুল, সেই দুঃখু মিয়ার পাশে জেলা প্রশাসন

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। তবু অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর মনোবল নিয়ে জীবনসংগ্রামে এগিয়ে চলেছেন আলতাফ হোসেন, যিনি এলাকায় দুঃখু মিয়া নামে পরিচিত। পা দিয়ে লিখেই শেষ করেছেন পড়াশোনা। চাকরির জন্য ঘুরেছেন বিভিন্ন দপ্তরে। চাকরি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের পৈতৃক জমিতে গড়ে তুলেছেন বিদ্যালয়। সেখানে এখন ১৪৫ শিশুর মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন শিক্ষার আলো। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া।সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে নরসিংদী সদর উপজেলার নগর পাঁচদোনা এলাকায় দুঃখু মিয়ার প্রতিষ্ঠিত প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও দুঃখু মিয়ার জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। বিদ্যালয়টিকে উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ারও আশ্বাস দেন।পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, আলতাফ হোসেন দুঃখু মিয়া শুধু নরসিংদীর গর্ব নন, তিনি সারা দেশের গর্ব। নিজের আত্মবিশ্বাস, কর্মস্পৃহা ও অদম্য মনোবল নিয়ে তিনি আজকের অবস্থানে এসেছেন। তার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথটি সুগম করতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসন ও সরকার তার পাশে থাকবে।বিদ্যালয়টিতে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের হাতে গাছ তুলে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, বিদ্যালয়ের ১৪৫ শিশুর প্রত্যেকের জন্য গাছ আনা হয়েছে। সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া গাছগুলো একদিন বড় বৃক্ষে পরিণত হবে, এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক বলেন, এত সুন্দর একটা চিন্তা থেকে উনি এখানে এসেছেন। উনি থেমে যাননি, হেরে যাননি। উনি নিজে এগিয়ে এসেছেন। আমি বলব, অন্যদের জন্য এটা অনেক বড় অনুপ্রেরণা। শুধু নরসিংদী নয়, সারা দেশের জন্য এটা গর্বের বিষয়। আমরা যদি সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে এভাবে এগিয়ে আসি, তাহলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।তিনি আরও বলেন, দুঃখু মিয়ার স্বপ্নের বিদ্যালয়টিকে উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে যা যা করণীয়, সেসব বিষয়ে কাজ করা হবে। এ উদ্যোগকে শুধু একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বপ্ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, এর সঙ্গে এলাকার শিশুদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে।১৯৬২ সালে নরসিংদী সদর উপজেলার নগর পাঁচদোনা এলাকায় জন্ম আলতাফ হোসেনের। তার বাবা মৃত তমিজ উদ্দিন। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকায় ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। দাদা আদর ও আক্ষেপ মিশিয়ে নাম রেখেছিলেন দুঃখু মিয়া। তবে নামের সঙ্গে দুঃখ জড়িয়ে থাকলেও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি তিনি।এদিন আরও উপস্থিত ছিলেন, নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার, নরসিংদী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান, পাঁচদোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাচ্চু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক তারিক হোসেন রানা, পাঁচদোনা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব লোকমান হোসেনসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে আলতাফ হোসেনকে অনুদান প্রদান ও শিক্ষার্থীদের চারা গাছ, স্কুলব্যাগ বিতরণ করা হয়।

দুই হাত ছাড়াই গড়েছেন স্কুল, সেই দুঃখু মিয়ার পাশে জেলা প্রশাসন