সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অচেনা মানুষদের নিজ বিয়েতে আমন্ত্রণ জানিয়ে ইন্টারনেট দুনিয়াকে আবেগে ভাসিয়ে দিয়েছেন এক চীনা তরুণ। ভিডিও বার্তায় নিজের জীবনের করুণ গল্প শেয়ার করে তিনি বলেছিলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার বাবা মারা যান। পরবর্তীতে মা অন্যত্র বিয়ে করলে বড় ভাই ও তিনি একে অপরের হাত ধরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে বড় হতে থাকেন।
জীবনসংগ্রামের হাজারো বাধা পেরিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ভালোবাসার মানুষকে ঘরে তোলার মতো অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন ওই তরুণ। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে অন্য জায়গায়; বিয়েতে উপস্থিত থাকার মতো নিকটাত্মীয় প্রায় কেউই ছিলেন না তাদের। স্বজনহীন এই বিয়েটা একেবারে খালি ও নিরুত্তাপ হয়ে পড়বে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক চিন্তায় পড়ে যান তিনি।
ভিডিওতে বলা হয়, ‘‘ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করার জন্য কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে টাকা জমিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়েতে দাওয়াত দেওয়ার মতো আত্মীয়স্বজন না থাকায় শেষ পর্যন্ত তিনি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছেই সাহায্যের হাত বাড়ান এবং বিয়ের আমন্ত্রণ জানান।’’
অনলাইন দুনিয়ায় সেই আহ্বানে তিনি পান অভাবনীয় ও উষ্ণ সাড়া। কমেন্ট বক্সে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে লিখতে শুরু করেন, ‘‘ভাই, চিন্তার কিছু নেই! আমরা আসছি!!’’
তবে চমকে যাওয়ার মতো বিষয় হলো, মানুষজন কেবল বিনা খরচে বিয়ের দাওয়াত খেতে আসেননি; বরং বর-কনের জন্য উপহার এবং রান্নার প্রয়োজনীয় নানা সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হয়ে যান। এমনকি বহু পেশাদার রাঁধুনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিয়ের খাবার তৈরি করে দিতে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
আমন্ত্রিতদের মধ্যে কেউ কেউ বিয়ের বরযাত্রীর জন্য পুরো একটি গাড়ি বহরের ব্যবস্থা করে দেন। আবার এক ব্যক্তি বর-কনের জন্য নিয়ে আসেন অতি বিলাসবহুল ‘মাইবাখ’ গাড়ি। অনেকে নিজ হাতে মোমবাতি এনে সাজিয়ে তোলেন বর-কনের বাড়ি। একদিকে তরুণের নিখাদ আন্তরিকতা, আর অন্যদিকে শত শত অচেনা মানুষের ভালোবাসা; সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক স্মরণীয় ও অবিস্মরণীয় বিয়ের মুহূর্ত।
হৃদয়স্পর্শী এ ঘটনায় যা বলছেন নেটিজেনরা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ইউ স্যাফিরে ক্রিস্টাল নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে এই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করা হয়। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই ৩ হাজারেরও বেশি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায় পোস্টটি।
তরুণের এই আবেগঘন গল্প ছুঁয়ে গেছে লাখো মানুষের হৃদয়। অনেকে মন্তব্য করে লিখেছেন, শত শত অচেনা মানুষকে তার এই বিশেষ দিনটিতে পাশে দাঁড়িয়ে আনন্দ করতে দেখে বরের অনুভূতি নিশ্চিতভাবেই ভাষায় প্রকাশের মতো ছিল না।
রেডিটের একজন ব্যবহারকারী লেখেন, ঠিক ১৫ মিনিট আগে তিনি বিয়ের ছোট একটি ভিডিও দেখেছেন। তিনি বলেন, দৃশ্যটি দেখে তার চোখ ভিজে উঠেছিল।
আরেক ব্যবহারকারী বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চান, এত মানুষের উপস্থিতি দেখে তরুণ বরের প্রতিক্রিয়া ঠিক কেমন ছিল? তিনি কি আদৌ এমন কিছু কল্পনা করতে পেরেছিলেন?
তৃতীয় এক ব্যবহারকারী প্রত্যাশা জানিয়ে লেখেন, ঠিক যেভাবে বিয়ের দিনে গ্রামবাসী ও সাধারণ মানুষ এই দম্পতির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, আগামীতে তাদের প্রতিটা বিবাহবার্ষিকীতেও যেন এই ভালোবাসার ধারা অব্যাহত থাকে।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অচেনা মানুষদের নিজ বিয়েতে আমন্ত্রণ জানিয়ে ইন্টারনেট দুনিয়াকে আবেগে ভাসিয়ে দিয়েছেন এক চীনা তরুণ। ভিডিও বার্তায় নিজের জীবনের করুণ গল্প শেয়ার করে তিনি বলেছিলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার বাবা মারা যান। পরবর্তীতে মা অন্যত্র বিয়ে করলে বড় ভাই ও তিনি একে অপরের হাত ধরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে বড় হতে থাকেন।
জীবনসংগ্রামের হাজারো বাধা পেরিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ভালোবাসার মানুষকে ঘরে তোলার মতো অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন ওই তরুণ। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে অন্য জায়গায়; বিয়েতে উপস্থিত থাকার মতো নিকটাত্মীয় প্রায় কেউই ছিলেন না তাদের। স্বজনহীন এই বিয়েটা একেবারে খালি ও নিরুত্তাপ হয়ে পড়বে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক চিন্তায় পড়ে যান তিনি।
ভিডিওতে বলা হয়, ‘‘ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করার জন্য কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে টাকা জমিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়েতে দাওয়াত দেওয়ার মতো আত্মীয়স্বজন না থাকায় শেষ পর্যন্ত তিনি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছেই সাহায্যের হাত বাড়ান এবং বিয়ের আমন্ত্রণ জানান।’’
অনলাইন দুনিয়ায় সেই আহ্বানে তিনি পান অভাবনীয় ও উষ্ণ সাড়া। কমেন্ট বক্সে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে লিখতে শুরু করেন, ‘‘ভাই, চিন্তার কিছু নেই! আমরা আসছি!!’’
তবে চমকে যাওয়ার মতো বিষয় হলো, মানুষজন কেবল বিনা খরচে বিয়ের দাওয়াত খেতে আসেননি; বরং বর-কনের জন্য উপহার এবং রান্নার প্রয়োজনীয় নানা সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হয়ে যান। এমনকি বহু পেশাদার রাঁধুনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিয়ের খাবার তৈরি করে দিতে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
আমন্ত্রিতদের মধ্যে কেউ কেউ বিয়ের বরযাত্রীর জন্য পুরো একটি গাড়ি বহরের ব্যবস্থা করে দেন। আবার এক ব্যক্তি বর-কনের জন্য নিয়ে আসেন অতি বিলাসবহুল ‘মাইবাখ’ গাড়ি। অনেকে নিজ হাতে মোমবাতি এনে সাজিয়ে তোলেন বর-কনের বাড়ি। একদিকে তরুণের নিখাদ আন্তরিকতা, আর অন্যদিকে শত শত অচেনা মানুষের ভালোবাসা; সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক স্মরণীয় ও অবিস্মরণীয় বিয়ের মুহূর্ত।
হৃদয়স্পর্শী এ ঘটনায় যা বলছেন নেটিজেনরা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ইউ স্যাফিরে ক্রিস্টাল নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে এই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করা হয়। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই ৩ হাজারেরও বেশি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায় পোস্টটি।
তরুণের এই আবেগঘন গল্প ছুঁয়ে গেছে লাখো মানুষের হৃদয়। অনেকে মন্তব্য করে লিখেছেন, শত শত অচেনা মানুষকে তার এই বিশেষ দিনটিতে পাশে দাঁড়িয়ে আনন্দ করতে দেখে বরের অনুভূতি নিশ্চিতভাবেই ভাষায় প্রকাশের মতো ছিল না।
রেডিটের একজন ব্যবহারকারী লেখেন, ঠিক ১৫ মিনিট আগে তিনি বিয়ের ছোট একটি ভিডিও দেখেছেন। তিনি বলেন, দৃশ্যটি দেখে তার চোখ ভিজে উঠেছিল।
আরেক ব্যবহারকারী বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চান, এত মানুষের উপস্থিতি দেখে তরুণ বরের প্রতিক্রিয়া ঠিক কেমন ছিল? তিনি কি আদৌ এমন কিছু কল্পনা করতে পেরেছিলেন?
তৃতীয় এক ব্যবহারকারী প্রত্যাশা জানিয়ে লেখেন, ঠিক যেভাবে বিয়ের দিনে গ্রামবাসী ও সাধারণ মানুষ এই দম্পতির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, আগামীতে তাদের প্রতিটা বিবাহবার্ষিকীতেও যেন এই ভালোবাসার ধারা অব্যাহত থাকে।

আপনার মতামত লিখুন